Jamiatu Luthfur Rahman Al Islamia Madrasa

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

তাবলীগ শব্দের অর্থ হচ্ছে “প্রচার” বা “বিচারহীনভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো”। তাবলীগ জামাত মূলত একটি অরাজনৈতিক, বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচারমূলক আন্দোলন, যার লক্ষ্য হল মুসলমানদের ঈমান, নামাজ, আখলাক, আমল ও দ্বীনদারির উন্নয়ন ঘটানো।তাবলীগ জামাত (Tablighi Jamaat) ১৯২৬ সালে ভারতের মেওয়াতে (Mewat) মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস আল-কান্ধলাভি (রহঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য মুসলমানদের তাদের ধর্মোপযোগী আমল ও নৈতিকতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া ও ইসলামের সংহতি ও জীবনে সুন্নাহের পুনরুত্থান।

-বাংলাদেশে প্রসার 

বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম শুরু হয় ভারতীয় উপমহাদেশে এর মূল সূচনার কিছু সময় পর থেকেই। এর পেছনে মূল প্রেরণা ছিলেন মাওলানা ইলিয়াস (রহ.), যিনি ১৯২৬ সালে ভারতের মেওয়াতে এই আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহ পৌঁছে দেওয়া এবং নামাজসহ দ্বীনের পাঁচটি মূল ভিত্তি মজবুত করা।বাংলাদেশে এর প্রচার শুরু হয় ভারত বিভাজনের আগে থেকেই, তবে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে তা আরও ব্যাপকতা লাভ করে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রাক-স্বাধীন ও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তাবলীগ জামাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। “বিশ্ব ইজতেমা” নামে প্রতিষ্ঠিত বৃহৎ দাওয়াতি জমায়েত বাংলাদেশে এর প্রভাবকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃশ্যমান করে তোলে।  

মূল কার্যক্রম:

১. ঘর থেকে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো। 

২. চিল্লা (৩ দিন, ১০ দিন, ৪০ দিন ও ৪ মাস ইত্যাদি সময়ের জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া)। 

৩. মসজিদ কেন্দ্রিক আমল (বয়ান, ফজরের পরে মাশোয়ারা, যিকির-আযকার)। 

৪. আখলাক ও চরিত্র গঠন। 

৫. সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনের প্রতি আগ্রহী করে তোলা।

কর্মপন্থা ও মূল দাওয়াতি কাঠামো:

– প্রচারণা (Da’wah) ও জুডারি (Outreach Tours) তাবলীগ জামাত “ঘর থেকে ঘরে” বা “মসজিদ থেকে মসজিদ” পদ্ধতিতে প্রচারণা করে। অর্থাৎ একটি দলে কমপক্ষে ১০–১২ জন মসজিদ ঘুরে দাওয়াত দেন।  

– চিল্লা (দাওয়াতি সফর) :সদস্যরা নির্দিষ্ট সময় (৩ দিন, ১০ দিন, ৪০ দিন বা ৪ মাস) তার স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে বিরত থেকে মাত্র দাওয়াত ও ইবাদতের জন্য বের হন।

– শুরা ও আমল (পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ) : তাবলীগ জামাত শুরা (পরামর্শ কমিটি) ভিত্তিক এবং দাওয়াতি কাজ পরিচালনায় সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  

– সাদাসিধা জীবনপন্থা ও নৈতিকতা : আখলাক, সাদাসিধা জীবনযাত্রা, সৌভাবে আচরণ, আন্তরিক দোয়া ও যিকিরের ওপর জোর দেওয়া হয়। 

বাংলাদেশে প্রভাব ও ভূমিকা: ঈমান ও আমল জাগরণ: অনেক মুসলিম যাদের ইসলামিক চর্চা কম ছিল, তারা তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে নামাজ, সুন্নাহ ও দ্বীনি অনুশাসন স্মরণ করে। 

– মুহাব্বতে ইসলামের ছড়াছড়ি : সামাজিক বন্ধন, মসজিদ কেন্দ্রীক উদ্যোগ ও দ্বীনি মুল্যবোধ সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে। 

– আন্তর্জাতিক সংযোগ: বাংলাদেশের তাবলীগীদের অনেকেই ভারত, পাকিস্তান, মালয়শিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে দাওয়াতে অংশ নেন।  

চ্যালেঞ্জ, মতপার্থক্য ও বিরোধ: আভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ঝড় : সম্প্রতির মধ্যে তাবলীগ জামাতে শাখাগত মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে “সা’দ কান্ধলভী গ্রুপ” ও “জুবায়ের গ্রুপ”–এর মধ্যে বিরোধ লক্ষ্য করা যায়।     

– সংযম ও নিয়ন্ত্রণ: বড় জমায়েত ও দাওয়াতি কার্যক্রমে প্রশাসনিক ও সুরক্ষা সমস্যা তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কাকরাইল মসজিদে দুই গ্রুপ সংঘর্ষ ঘটেছে।     

– আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ ও আইনগত নিয়ন্ত্রণ: কখনো কখনো সরকার তাদের কার্যক্রম সীমিত করেছে — বিশেষ করে পূর্বের COVID-19 প্রেক্ষাপটে ৩২১ বিদেশি সদস্যকে ঢাকার মসজিদে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সা’দের অনুসারীদের কাকরাইল এলাকায় বড় সমাগম সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।     

– রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনা: তাবলীগ জামাতকে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-মুক্ত রাখলেও কিছু সমালোচনা হয় যে কাজগুলি কখনো কখনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের দিকে মোড় নেয়।কিছু সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ধর্মীয় বিতর্কে তাবলীগ জামাত উল্লেখিত হয়।  

– সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি:  কারো দৃষ্টি থেকে দাওয়াত কর্মসূচি বিরক্তিকর মনে হতে পারে, বিশেষ করে যদি তারা প্রবলভাবে শ্রেণিবদ্ধ দায়িত্ববোধ ও সময় সামঞ্জস্য করতে না পারে।অনেকে বলেছে, “দাওয়াতের আবেদনে (চলাফেরায়) ব্যক্তিগত ইবাদত ও নফল ইবাদতের অবহেলা হতে পারে।”  

– বিশ্ব ইজতেমা  বা বৃহৎ ইজতেমা: ১৯৫৪ সালে প্রথম ইজতেমা হয় টঙ্গীর পাগার এলাকায়। পরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বাৎসরিক বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন শুরু হয়, যা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জমায়েত হিসেবে পরিচিত।

টঙ্গী, ঢাকা এলাকায় প্রতি বছর ‘বিশ্ব ইজতেমা’ অনুষ্ঠিত হয়, যা মুসলমানদের একটি বৃহৎ সমাবেশ। এখানে ধর্মীয় উপদেশ, জিকির, দোয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম হয়।

বর্তমান অবস্থা :- সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি ও হস্তক্ষেপ -গত কিছু সময় ধরে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তাবলীগের দুই গোষ্ঠী — মাওলানা জুবায়ের অনুসারী ও মাওলানা সাআদের অনুসারীদের মধ্যে বিংশা ইজতেমার মাঠে ঘনিষ্ঠ লড়াই হয়, এতে অন্তত ৩ জন নিহত ও বহু আহত হন। এর প্রেক্ষিতে, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BGB) মোতায়েন করা হয় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া, হোম মন্ত্রণালয় তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং পরে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

– কাকরাইল মসজিদ নিয়ন্ত্রণ ও দ্বিধা: কাকরাইল মসজিদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। সাআদ গোষ্ঠীর অনুসারীরা এক পর্যায়ে মসজিদ দখল করে নেন দুই সপ্তাহের জন্য। তবে পরে জুবায়ের গোষ্ঠীর কিছু অংশ মসজিদ ও ইজতেমা নিয়ন্ত্রণ দাবি থেকে সরে আসে এবং পুরাতন বৈঠক ও সমঝোতার আওতায় ফিরে আসে।

– সরকারি হস্তক্ষেপ ও নির্দেশ: হোম মন্ত্রণালয় দুই গোষ্ঠীর কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত করার নির্দেশ দেয়, যাতে তারা তাদের নিজ নিজ মসজিদে সীমাবদ্ধ থেকে কাজ করে। এছাড়া, তাবলীগ জামাতের দুই গোষ্ঠীর কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, পরে তা তুলে নেওয়া হয়। ইজতেমা দুইভাগে আয়োজন -বহুল আলোচিত সিদ্ধান্ত হিসেবে, ভবিষ্যতের বিশ্ব ইজতেমা দুই ধাপে আয়োজন করা হবে — প্রথম অংশ জুবায়ের অনুসারীদের দ্বারা, দ্বিতীয় অংশ সাআদের অনুসারীদের দ্বারা।  

গোষ্ঠী বিভাজন: কারণ ও প্রভাব- নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের দাবী প্রধান দ্বন্দ্ব হলো — কে কাকে নেতৃত্যে মানবে। সাআদ গোষ্ঠীর অনুসারীরা মাওলানা সাআদ কান্ধলাভীর অনুসরণ করে, আর জুবায়ের গোষ্ঠীর অনুসারীরা মাওলানা জুবায়ের আহমেদ ও তার সমর্থকদের অনুসরণ করে। এই ভিন্ন পথ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ পন্থা গোষ্ঠী বিভাজনের মূল কারণ।কৃতিত্ব ও দায়িত্ববণ্টন নিয়ে মতপার্থক্য দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মসজিদ ও ইজতেমা নিয়ন্ত্রণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, বক্তৃতা ইত্যাদিতে অধিকারবাণী এবং কর্তৃত্ববণ্টন ইত্যাদি বিষয়ে সংঘর্ষ দেখা দেয়। সামাজিক ও ধর্মীয় বিভেদ সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিভাজন সৃষ্টি হয়, যারা একবছর জৈব অংশগ্রহণ করতে চায় কিন্তু গোষ্ঠীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব তাদের ধরা দেয়।নামের ব্যবহার ও বৈধতা কিছু গোষ্ঠী নিজেদের “প্রকৃত” তাবলীগ জামাত দাবি করে, অন্য গোষ্ঠীকে বক্তৃতা “ফর্বি” বা অবৈধ বলা হয়।নেতৃত্ব সমস্যা- নেতৃত্ব নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব তাবলীগ জামাত বেসরকারি ও অরাজনৈতিক একটি সংগঠন হিসেবে পরিচিত হলেও, শীর্ষ নেতৃত্ব বা আমীর নির্বাচনে কোন স্থায়ী প্রক্রিয়া নেই। ফলে যেসব জনই বলিষ্ঠ দাবি করে তারা শক্তিশালি অংশগ্রহণ করে।- আন্দোলনশীলতার অভিসন্ধি কিছু পর্যায়ে নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক অনুষঙ্গ বা সামাজিক প্রভাব খোঁজার চেষ্টা করেন — যা দলীয় স্বাভাবিক মিশন থেকে বিচ্যুতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।- গোষ্ঠীভিত্তিক প্রভাব যে গোষ্ঠী নেতা বা বলিষ্ঠ বক্তা বেশি আকর্ষণ করতে পারে, সেই গোষ্ঠীর গুরুত্ব বাড়ে। ফলে গোষ্ঠীগত প্রভাব ও ঝোঁক বাড়ে। 

– নেতৃত্ব পরিবর্তন ও উত্তরাধিকার সমস্যা আগের আমীর বা শীর্ষ নেতা মৃত্যুবরণ করলে বা অবসর নিলে নতুন নেতৃত্ব গ্রহণে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। 

সমাধান ও সুপারিশ :

  • ১) শুরা ভিত্তিক পুনর্মিলন: দুই গোষ্ঠীর নেতারা মিলিত শুরা সৃষ্টি করে বিশ্বস্ত আলেম ও মাশায়েখদের মাধ্যমে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বিভাজন হ্রাস পেতে পারে। 
  • ২) স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববণ্টন:  মসজিদ, ইজতেমা ও দাওয়াতী কার্যক্রমে দায়িত্ববণ্টন ও রূপায়ণে সুশাসন মূল্যবান। 
  • ৩)  শান্তি ও অংশীদারি গঠন: গোষ্ঠীগত লড়াই বন্ধ করে জনগণ এবং আলেমদের অংশীদারিতে নেতৃত্ব পুনরুজ্জীবিত করা। 
  • ৪) আইনি ও প্রশাসনিক নীতি অনুসরণ: আইন ও ধর্মীয় নীতিগুলি মান্য করে প্রকাশ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও সমঝোতা স্থাপন করা। 
  • ৫) নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি দাওয়াতে ফোকাস: নেতা-কর্মীরা দাওয়াত, চরিত্র ও শিক্ষা প্রসারে মনোনিবেশ করলে গোষ্ঠীর পার্থক্য কম হতে পারে।
  • ৬) ধার্মিক ভিত্তি ও সুন্নাহ অনুসরণ: তাবলীগ জামাতের মূল আকর্ষণ তার কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক জীবনপন্থা। যদিও গোষ্ঠী বিভাজন ঘটে, আলেমদের দায়বদ্ধতা হলো সুন্নাহকে অক্ষুণ্ণ রেখে দ্বিধাহীনভাবে দাওয়াত চালিয়ে যাওয়া। সুন্নাহতে বিভাজন নেই; তাই নেতৃত্ব পরিবর্তন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কখনোই সুন্নাহের ভাবধারাকে ডিগবর্মা করতে পারবে না।
  • ৭) শুরা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া: ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছে শুরা (পরামর্শ)-এর নীতি। (সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৩৮) 
  • তাবলীগ জামাতের মধ্যে গোষ্ঠী বিভাজন মূলত নেতৃত্ব প্রক্রিয়ার শূন্যতা থেকে। আলেমদের উচিত—বিশ্বস্ত শুরা গঠন, সকল বিষয়ে শূরার সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং একজোটভাবে কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করা।
  • ৮) নেতৃত্ব ও আমীরীয় উত্তরাধিকার: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উম্মাহর প্রথম যুগ থেকে liderança উত্তম ব্যক্তিত্ব ভিত্তিক। আজও তাবলীগের জন্য প্রয়োজন গুন, সূত্র, ন্যায্যতা ও দৃঢ় চরিত্র—যার ভিত্তিতে আলেম ও আমীর নির্ধারণ হবে। ব্যক্তিসত্তার গুরুত্ব কমিয়ে *চরিত্র ও ঈমান*ই প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত।
  • ৯) বিদআত ও সংগঠনবৃত্তিক বিশ্লেষণকোনো গোষ্ঠী যদি এমন পদক্ষেপ নেয় যা সুন্নাহ-বিরোধী, সেটি নিষিদ্ধ। আলেমদের দায়—যে সিদ্ধান্তই নিক, তা সুন্নাহের আলোকে বিশ্লেষণ করা এবং গোষ্ঠীগত আবেগ বা পরিচিতি থেকে বিরত থাকা। বিভাজন এড়িয়ে সমন্বিত দাওয়াত চালিয়ে যেতে হবে, কারণ দ্বীনের কাজ ভেদাভেদ ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে।
  • ১০) আমল ও প্রচার ভারসাম্য: এক পক্ষ যদি প্রচারে বেশি মনোযোগ দেয় এবং অন্যরা আমলে বা চরিত্র গঠনে অবহেলা করে, তাহলে সমন্বয়হীনতা বিদ্যমান হয়। আলেম ও কর্মীদের উচিত—প্রচার, আমল ও চরিত্র, তিনটি দিকেই ভারসাম্য বজায় রাখা।
  • ১১) শান্তি ও ঐক্যপন্থা: বিভাজন ও সংঘর্ষ ইসলামের শত্রু। আলেমদের উচিত—দায়বদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও পুনর্মিলন উদ্যোগ চালানো। মসজিদ, ইজতেমা, দাওয়াত—সবই যেন ঐক্য ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হয়।
  • ১২) গণমাধ্যম, দাওয়াত ও তরুণদের ভূমিকা: গণমাধ্যমে বিভাজন চরিতার্থ হলে স্লোগান ভিত্তিক উত্তেজনা ছড়াতে পারে। তাই লিডার ও আলেমদের দায়িত্ব—প্রচারে কাব্যিকতা ও নিন্দামূলক বক্তব্য পরিহার করা। তরুণদের সুসংগঠিতভাবে দাওয়াতে যুক্ত করার মাধ্যমে বিভাজন সামলানো যেতে পারে।

গোষ্ঠী বিভাজন বা নেতৃত্ব দ্বন্দ্ব হলো মানবিক দুর্বলতার প্রকাশ, কিন্তু দ্বীনের কাজ কখনওই থেমে থাকা উচিত নয়। আলেমদের দায়িত্ব হলো—শুরা, ন্যায্য নির্বাচন, ইমানিক গুণাবলির ভিত্তিতে নেতৃত্ব গঠন ও দাওয়াত প্রক্রিয়াকে সুসমন্বিত রাখা। ইনশাআল্লাহ, ঐক্যবদ্ধভাবে তাবলীগ জামাত আবারই সুন্নাহভিত্তিক পথচলা পুনরুদ্ধার করতে পারবে। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাত ইসলামের মূল শিক্ষা—নামাজ, ঈমান, আখলাক, দাওয়াত, এবং আমল—সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার একটি নীরব বিপ্লব হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশে তাবলীগ জামাত ইসলামী মূল্যবোধ পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি সমাজে নামাজ, সুন্নাহ, ইখলাস ও দ্বীনি জীবনযাত্রা ছড়িয়ে দিতে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা ইসলামের শান্তিপূর্ণ দাওয়াত সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিচ্ছে।

জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদরাসা, কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা ও আমলের পাশাপাশি তাবলিগি নছিহত ও আমলের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয়ে অটল। ছাত্র-শিক্ষক সকলেই নিয়মিতভাবে তাবলিগ জামাতের মেহনত, জোড়, গাশত ও মসজিদের ইফাজতসহ সংশ্লিষ্ট সকল দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। আল্লাহ আমাদের এই আমলকে কবুল করুন। আমিন।