মাজলিসে আম্মাহ/আজীবন সদস্য পরিষদ/সাধারন পরিষদ বা ‘বদরী কমিটি’ বা ‘আছহাবে বদরীন’






















- মৌঃ মোঃ জুবেদ আলী, পিতাঃ মরহুম বাহাদুর আলী, মাতাঃ মরহুমা রহিমা বেগম, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আতাউর রহমান সুমন, পিতাঃ মৌঃ মোঃ জুবেদ আলী, মাতাঃ লাইলী আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ খাইরুল ইসলাম জুয়েল, পিতাঃ মৌঃ মোঃ জুবেদ আলী, মাতাঃ লাইলী আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আমির উদ্দিন, পিতাঃ মরহুম বাহাদুর আলী, মাতাঃ মরহুমা রহিমা বেগম, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আশ্রব আলী, পিতাঃ মরহুম শহর আলী, মাতাঃ মরহুমা রহিমা বেগম, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আবদুর রাশিদ, পিতাঃ মরহুম শের আলী, মাতাঃ মরহুমা শোভার মা, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ গোলাম মোস্তুফা, পিতাঃ মরহুম শের আলী, মাতাঃ মরহুমা শোভার মা, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ রাসেল মিয়া, পিতাঃ মোঃ আবদুর রাশিদ, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ তুহিন মিয়া, পিতাঃ মোঃ আবদুর রাশিদ, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মুফতি হাফেজ মাওলানা নাইম, পিতাঃ মোঃ আবদুর রাশিদ, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন, পিতাঃ মোঃ গোলাম মোস্তুফা, মাতাঃ নাজমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আলমগীর, পিতাঃ মোঃ গোলাম মোস্তুফা, মাতাঃ নাজমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ শহিদ মিয়া, পিতাঃ মরহুম শের আলী, মাতাঃ মরহুমা শোভার মা, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আবদুল মান্নান, পিতাঃ মরহুম ছামেদ আলী, মাতাঃ রাবেয়া আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আবদুস ছালাম, পিতাঃ মরহুম ছামেদ আলী, মাতাঃ রাবেয়া আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ এমদাদুল হক, পিতাঃ মরহুম শহর আলী, মাতাঃ মরহুমা রহিমা বেগম, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ পিয়াস, পিতাঃ মোঃ এমদাদুল হক, মাতাঃ তানিয়া বেগম, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ নয়ন মিয়া, পিতাঃ মোঃ কাছুম আলী, মাতাঃ বেগম, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ স্বপন মিয়া, পিতাঃ মোঃ কাছুম আলী, মাতাঃ বেগম, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আবদুল কুদ্দুছ (চান মিয়া), পিতাঃ মরহুম মোঃ আক্কাছ আলী, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ তারা মিয়া, পিতাঃ মরহুম মোঃ আক্কাছ আলী, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ সুরুজ আলী, পিতাঃ মরহুম মোঃ আক্কাছ আলী, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ তোতা মিয়া, পিতাঃ মরহুম মোঃ আক্কাছ আলী, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ ওমর ফারুক বাচ্চু, পিতাঃ মরহুম মোঃ আকবর আলী, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আহমদ আলী, পিতাঃ মরহুম মোঃ মামুদ আলী ফকির, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ ফারুক মিয়া, পিতাঃ মরহুম মোঃ সাহেদ আলী, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ জমশেদ আলী, পিতাঃ মরহুম মোঃ মামুদ আলী ফকির, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ বারেক মিয়া, পিতাঃ মরহুম জলিল মিয়া, মাতাঃ রাহিমা আক্তার, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আবদুল হাই , গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ আবুল হোসেন, গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
- মোঃ জুয়েল মিয়া , গ্রাম- ভাটি সাভার, ডাকঘর- হেমগঞ্জ বাজার, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
ক্রমিক নং | নাম ও পদবী | ছবি |
১ | জনাব মোঃ লুৎফুর রহমান | |
২ | হাফেজ মুফতি মুহাম্মাদ তাজুল ইসলাম | |
৩ | হাফেজ মুহাম্মদ আবু রায়হান | |
৪ | হাফেজ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন | |
৫ | মুহাম্মদ আবেুল হাশেম |
মুহতারাম!
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
(আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।)
মহোদয় সমীপে আরজ এই যে, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী ইলম ও আমলের মাধ্যমে মুসলিম জনসাধারনের মধ্যে মাহান আল্লাহ সুবহানু ত’য়ালার আনুগত্য ও রাসুল (সাঃ) এর অনুকরণে ইসলামী জিন্দেগীর সহিহ নমুনা পেশ করার জন্য উপযুক্ত শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করার নিমিত্তে – “জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা” গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করি।
খোদাভীরু ধর্মপ্রাণ ভাই ও বোনেরা! আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এ দুনিয়াতে অনেক নিয়ামত ও অনুগ্রহের মাঝে নিমজ্জিত রেখেছেন। এর শুকরিয়া হিসেবে আমাদের উচিত আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সুন্দর আমলগুলো ধারণ করে নিজের আখেরাতের পথকে সুগম করা। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের এক জামাআত যারা বদর যুদ্ধে রাসূল সাঃ এর সাথে শরীক ছিলেন। সে যুদ্ধে শরীক থাকার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা তাঁদের উপর নিজ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। বুখারী শরীফে সে সকল সাহাবীদের নামও উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গানে দ্বীনের অভিজ্ঞতা হল তাদের নাম নিয়ে দু’আ করলে তা আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। তাদের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন।
সে ৩১৩ জনের সংখ্যার বরকত হাসিল করার মানসে কুরআন ও সুন্নাহর প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে “জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা” ভাটি সাভার, হেমগঞ্জ বাজার, নান্দাইল, ময়মনসিংহ -এ ৩১৩ জনের একটি মজলিসে আম্মাহ/আজীবন সদস্য পরিষদ/সাধারন পরিষদ বা ‘বদরী কমিটি’ বা ‘আছহাবে বদরীন’ নামে সহায়ক কমিটি গঠণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
‘পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল করা হয়েছে। এটি মানুষের জন্য পথনির্দেশনার প্রমাণপঞ্জি ও সত্য মিথ্যার মানদণ্ড।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫) হাঁ, বাস্তবিকই সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের এক মহা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন আখেরি নবী (সাঃ)-এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কেরাম ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে। তাই সেদিনকে ইয়াওমুল ফুরকান বা সত্য মিথ্যার পার্থক্যের দিন বলা হয়। সত্যপথের অনুসারী অল্পসংখ্যক রোজাদার মুসলমান, বিশাল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত মিথ্যার অনুসারী কাফের-মুশরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করার মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার চিরপার্থক্য সূচিত হয়ে যায়। এ যুদ্ধে মুসলমান মুজাহিদের সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৭০ জন মুহাজির এবং অন্যরা আনসার। অন্যদিকে নবী ও দ্বীন-ধর্মবিরোধী কাফের-বেইমানদের সৈন্যসংখ্যা ছিল এক হাজার। এই বিপুল সৈন্যশক্তির বিরুদ্ধে হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নেতৃত্বে তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) আল্লাহর ওপর ভরসা করে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে কাফেরদের অহংকার ধূলোয় মিশিয়ে দেন এবং তাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনেন। আল্লাহপাক তাই সাহাবাদের সম্মানে বলেছেন, তাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।
সত্য ও মিথ্যার, হক ও বাতিলের, মুসলিম ও কাফেরদের মধ্যকার ঐতিহাসিক যুদ্ধ এবং এটি ছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ। মক্কার কাফেররা রাসূল (সাঃ) এবং মুমিন বাহিনীকে মক্কা থেকে বের করে দিয়েই চুপ করে বসে থাকেনি, তারা ইসলামকে শেষ করে দেয়ার জন্য নানা ফন্দি আঁটতে থাকে সে সুবাদে আবু সুফিয়ান মক্কার কাফেরদের কাছ থেকে প্রচুর স্বর্ণালংকার নিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সমরাস্ত্র সংগ্রহে যায়, আর সে তার সে কাফেলা নিয়ে যখন মক্কায় ফিরিছিল মদীনার পাশ দিয়েই যেতে হবে, তাই হুজুর (সাঃ) ৩১৩ জন নিরস্ত্র সাহাবীকে নিয়ে আবু সুফিয়ানের বানিজ্য কাফেলাকে আটকাতে বের হলেন, যুদ্ধের নিয়তে নয় বরং আবু সুফিয়ান যে সব অস্ত্র সস্ত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল তা আয়ত্বে নেয়ার নিয়তে বের হলেন।
এদিকে আবু সুফিয়ানও সতর্ক দৃষ্টি রাখছিল, সে একটি কুয়ার পাশে উটের গোবর দেখল সে গোবর হাতে নিয়ে দেখল তাতে খেজুরের বিচি এবং সে বুঝতে পারল এই উট মদীনার এবং সে আরো আঁচ করে নিল মুহাম্মদ (দ) হয়ত তাকে পথে বাঁধা দিবে তাই সে রাস্তা পরিবতন করে ফেলল এবং একজন অশ্বারোহিকে মক্কায় পাঠিয়ে দিল খবর দিল যে সে মদীনায় মুসলমানদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। সে খবর পেয়ে আবু জেহেল ১০০০ সশস্ত্র সৈন্য নিয়ে দ্রুত রওয়ানা হয়ে গেল, এদিকে মুসলমানরা বদর প্রান্তরে এসে অনাকাংখিত ভাবে আবু জেহেলের বিশাল সশস্ত্র বাহিনির সামনাসামনি হয়ে গেল, আর এক অসম যুদ্ধ শুরু হল ।
বদরের যুদ্ধের কারণ :- ১, মক্কার কুরাইশের ঈর্ষা করতো ২, আবদুল্লাহ-ইবনে উবাইর ষড়য্ন্ত ৩, মদিনায় ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতকতা ৪, বাণিজ্যপথ রুদ্ধ হওয়ার আশংকা ৫, কুরাইদের দস্যুবূত্তি ও লুটতরাজ ৬, নাখলার খন্ডযুদ্ধ ৭, আবু সুফিয়ানের অপপ্রচার ৮, মহানবীর (স.) ঐশীবাণী লাভ এসব গুলোই ছিল বদর যুদ্ধের কারণ । বদর যুদ্ধের ঘটনা :- বদর যুদ্ধে কুরাইদের ১০০০ সৈন্য নিয়ে হযরত মুহাম্মদ (স.) ৬২৪ খ্রিঃ ১৭ই মার্চ (১৭ই রমজান, ২য় হিজরি) ৩১৩ জন মুজাহিদ নিয়ে গঠিত একটি ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে মদিনার প্রায় ৮০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে বদর নামক স্থানে যুদ্ধ সংঘঠিত হয় ।বদর যুদ্ধে আবুজেহেলসহ মোট ৭০ জন কুরাইশ নিহত এবং ৭০ জন বন্দি হয় । মুসলমানদের পক্ষে মাএ ১৪ জন শাহাদাত্ বরণ করে । [Note: এ যুদ্ধে নবীর দুটি দাঁত মোবারক শহীদ হয়] বদর যুদ্ধের ফলাফল ও গুরুত্ব :- ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধের গুরুত্ব ও তাত্পর্য অপরিসীম । এ যুদ্ধের সাথে মুসলমানদের আস্তিত্ব ও ইসলামের ভবিষ্যত্ জড়িত ছিল ।
বিগত অভিযানগুলির ন্যায় এই অভিযানেরও উদ্দেশ্য ছিল কুরায়েশ কাফেলাকে আটকানো। তাই অন্যান্য অভিযানের মতই এটাকে ভাবা হয়েছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাউকে অভিযানে যেতে বাধ্য করেননি। অবশেষে ৮ রমজান তারিখে ৩১৩, ১৪ বা ১৭ জনের কাফেলা নিয়ে সাধারণ প্রস্তুতিসহ তিনি রওয়ানা হলেন। যার মধ্যে ৮২, ৮৩ বা ৮৬ জন ছিলেন মুহাজির (মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতকারী) এবং বাকীগণ ছিলেন আনছার (মদীনায় মক্কার মুহাজিরদেরকে সাহায্যকারী)। আনছারগণের মধ্যে ৬১ জন ছিলেন আউস গোত্রের এবং ১৭০ জন ছিলেন খাযরাজের।
বি’রে সুক্বইয়া নামক স্থানে এসে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ক্বায়েস ইবনু আবী ছা‘ছা‘কে সংখ্যা গণনা করতে বললেন। পরে সংখ্যা জানতে পেরে রাসূল (সাঃ) খুশি হয়ে বললেন, তালূতের সৈন্য সংখ্যাও তাই ছিল। এটা বিজয়ের লক্ষণ। তিন শতাধিক লোকের এই বাহিনীতে মাত্র ২টি ঘোড়া ছিল যুবায়ের ইবনুল আওয়াম এবং মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদের এবং ৭০টি উট ছিল। যাতে দু’তিন জন করে পালাক্রমে সওয়ার হয়ে চলতে হতো। রাসূল (সাঃ), আলী ও মারছাদ বিন আবী মারছাদ গানাভীর জন্য একটি উট বরাদ্দ ছিল। যাতে পায়ে হাঁটার পালা আসলে রাসূল (সাঃ) নিজেও হাঁটতেন। এ সময় মদীনায় আমির নিযুক্ত হন অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম। পরে ‘রাওহা’ নামক স্থানে পৌঁছে আবু লুবাবা ইবনু আবদিল মুনযিরকে ‘আমীর’ নিযুক্ত করে পাঠানো হয়।
অপর পক্ষে কাফেলার পতাকা বহনের দায়িত্ব দেওয়া হয় মদীনার প্রথম দাঈ মুসআব বিন উমায়েরকে। ইতিপূর্বেকার সকল পতাকার ন্যায় আজকের এ পতাকাও ছিল শ্বেত বর্ণের। ডান বাহুর সেনাপতি নিযুক্ত হন যুবায়ের ইবনুল ‘আওয়াম এবং বাম বাহুর জন্য মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ)। পুরা বাহিনীতে এ দু’জনেরই মাত্র দু’টি ঘোড়া ছিল। আর পশ্চাদ্ভাগের সেনাপতি নিযুক্ত হন ক্বায়েস ইবনু আবী ছা‘ছা‘আহ (রাঃ)। এতদ্ব্যতীত মুহাজিরগণের পতাকা বাহক হোন আলী (রাঃ) এবং আনছারগণের সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)। আর সার্বিক কম্যান্ডের দায়িত্বে থাকেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)।
মুসলিম বাহিনী
-
সৈন্য সংখ্যা : ৩১৩জন। মুহাজির ছিলেন ৮২ জন। আর সবাই আনসার। আওস গোত্রের ৬১ জন এবং খাজরাজ গোত্রের ১৭০ জন।
-
মুসলিম সেনাপতি : বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
-
মুসলিমদের উট ও ঘোড়ার সংখ্যা ছিল যথাক্রমে : ৭০টি ও ২টি।
-
মুসলিম বাহিনী শহীদ হয় : ১৪ জন। (৬জন মুহাজির, ৮জন আসনার)
-
আবু জাহেলকে হত্যা করেন ২ ভাই : হজরত মুআজ ও মুআওয়েজ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা।